Saturday, May 30, 2015

ব্যাংকিং বিবর্তনে আপদের আবর্তন!

অনলাইন ব্যাংকিং শৈশব পার করে যৌবনে পদার্পণ করেছে। প্রাথমিক বিস্ময় থেকে পরিকল্পিত বিকাশ আরম্ভ হয়েছে, ব্যাংকগুলি ক্রমান্বয়ে “পেপারলেস” ব্যাংকিং এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। একই সাথে ব্যাংক গুলো সম্ভবত সূচনা লগ্ন থেকে আজতক এত বড় ও ব্যাপক চ্যালেঞ্জের সামনাসামনি আর কখনো হয়নি। একদিকে প্রযুক্তি গত বিস্ফোরণ, অন্য দিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা যার সূত্রপাত ব্যাংকের হাত ধরেই। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের হাত ধরে নতুন আরেক অদৃশ্য কিন্তু মহা পরাক্রমশালী যন্ত্রণার নাম “মানি লন্ডারিং”, যার পার্শ্ব প্রতিক্রয়া হিসাবে গ্রাহকের প্রতি নিয়ম কানুনের ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রশিক্ষন ও জরিমানার বোঝা বাড়ছে, ব্যাংক-গ্রাহক পারস্পারিক আস্থা কমেছে। আবার পরিবর্তনশীল আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে গ্রাহকের প্রয়োজন ও চাহিদাও সদা পরিবর্তনশীল। ফলে ব্যাংকের প্রথাগত ভূমিকা ও অবয়বের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী সময়ের প্রয়োজনেই। অস্তিত্বের প্রয়োজনেই ব্যাংককে পরিবর্তনের সুবিধা নিতে হবে। এই পরিবর্তনের ধারায় ব্যাংকগুলিকে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা হল জালিয়াতি প্রতিরোধ। বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং এর বিকাশের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে পরিচয় জালিয়াতি বা “আইডেনটিটি ফ্রড”। বর্তমানে সব ব্যাংকই তাদের নিজস্ব সুরক্ষা ব্যাবস্থার মাধ্যমে জালিয়াতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু যত বেশী সুরক্ষা ব্যাবস্থা তত বেশী গ্রাহক ভোগান্তি ও গ্রাহক বাড়তি সেবার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি। তাই সব সময়ই ব্যাংক গুলিকে গ্রাহক তুষ্টি ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। আর জালিয়াতি জনিত ক্ষতি সমন্বয়ের ফলে আখেরে যেমন ব্যাংকের সেবা প্রদানের ব্যায় বাড়ে তেমনি জালিয়াতির বিররুদ্ধে প্রতিরোধ প্রোগ্রামও ব্যাংকের সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি করে। সব দেশ বা সব ব্যাংক বা সব গ্রাহকই সমান ঝুঁকিতে নাই তবে কেউই ঝুঁকির বাইরেও নয়। বাংলাদেশে এখনও তেমন উল্লেখ যোগ্য অনলাইন ব্যাংকিং জালিয়াতি হয়নি। তার মানে এই নয় যে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা খুবই শক্তিশালী, এর কারণ এখনও কোন বড় আক্রমনের ঘটনা ঘটেনি, যে কোন সময় তা হতে পারে। এখনো জালিয়াতদের নজর বাংলাদেশের উপর খুব একটা পড়েনি। সংঘবদ্ধ জালিয়াতদের কাছে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে লোভনীয় অনেক সুযোগ আছে। তবে বন্ধু-বান্ধব-আত্নীয়-পরিজন-সহকর্মী বা দুর্জন প্রযুক্তি বিদ্বানের খপ্পরে পড়ার সম্ভাবনা সবসময়ই আছে। আর সহজ শিকার হিসাবে বাংলাদেশের প্রতি জালিয়াত চিলদের কুনজর পড়তেই বা কতক্ষন! অনলাইন ব্যাংকিং যেমন বৈশ্বিক তেমনি এর ঝুঁকিও বৈশ্বিক।
অনলাইন ব্যাংকিং এর শুরু থেকেই জালিয়াতি শুরু হয়নি, ২০০০ সালের শুরু থেকে এই সমস্যা এত প্রকোপ হয় যে ব্যাংক গুলোকে তা নতুন করে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। বেশীরভাগ অনলাইন জালিয়াতি দুই ধাপে বিভক্ত। প্রথমত গ্রাহকের হিসাবে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন, আইডি, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি সংগ্রহ। দ্বিতীয়ত সংগৃহীত তথ্য ব্যাবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের হিসাবের অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর। এদের প্রতিরোধ করা যায় প্রথমত তথ্য চুরি পর্যায়ে, পরবর্তীতে অবৈধ ভাবে লেন-দেন করার সময়ে। তবে প্রথম পর্যায়ে তা প্রতিরোধ করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী যাতে মুখ্য ভূমিকা থাকে গ্রাহকের আর লেন-দেন পর্যায়ে প্রতিরোধের দায়িত্ব নিতে হয় ব্যাংকের যা সম্পূর্ন রূপে প্রায়ই অসম্ভব, কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল। বিভিন্ন গোষ্ঠীর জালিয়াতদের জন্য বিভিন্ন কৌশল প্রয়োজন। বন্ধু রূপী বা পরিবারের আভ্যন্তরীণ ও প্রলুব্ধ সুযোগ সন্ধানীদের কেবলমাত্র গ্রাহক পর্যায়ে সাধারণ সতর্কতার মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা যায়, কারণ তারা তথ্য পায় খোদ গ্রাহকের নিকট হতে। আর আভ্যন্তরীণ জালিয়াতদের বা বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া প্রতিরোধের জন্য দরকার চলমান ও বিবর্তনীল প্রতিরোধ ব্যাবস্থা। কিন্তু' দুর্দমনীয় হচ্ছে দুর্জন প্রযুক্তি বিদ্বান ও সংগঠিত জালিয়াত চক্র। তবে ব্যাংক-গ্রাহকের যৌথ ও সমন্বিত ভূমিকায় এই হুমকি সহজেই মোকাবেলা করা বা সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব, কারণ তথ্য চুরি ঠেকানো গেলে জালিয়াতির সুযোগও কমে আসবে ।
প্রথম ধাপে এই তথ্য সংগ্রহের জন্য জালিয়াতরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পন্থা উদ্ভাবন করেছে। এরা এতটাই সৃষ্টিশীল যে ব্যাংকগুলি যখন যে পন্থাই অবলম্বন করেছে তারা তা ভাঙ্গার পন্থাও বের করেছে। মূলত যারা সাইবার ক্রাইমের সাথে জড়িত তারা এই গ্রহের সবচেয়ে মেধাবীদের অন্যতম। যার ফলে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ব্যাংক গুলি এখন পর্যন্ত প্রায় পুরোটাই ব্যর্থ, কিছুটা সাফল্য আছে সংগঠিত অপরাধ উদঘাটনে। যদিও ব্যাংকগুলি তাদের নিরাপত্তা বাড়াতে সম্ভাব্য সব কৌশলই অবলম্বন করেছে কিন্তু প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে অপরাধীদের দ্বারা অপরাধ সংগঠনের পর। এর ফলে একই ধরনের অপরাধের হার কিছুটা কমলেও অপরাধের মাত্রা কখনোই কমেনি বরং দিনকে দিন তা আরও বহুমাত্রিক হয়েছে। অস্থির সময়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদার বাজারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অসমন্বিত বিকাশে প্রযুক্তি অবকাঠামোতে মানানসই কোন ”আদর্শ” গড়ে না ওঠায় এবং নানাবিধ প্রযুক্তির অপরিমেয় ও অপরিমিত ব্যাবহারিক প্রয়োগের সম্ভাব্যতার প্রেক্ষিতে নিরাপত্ত্বা বজায় রাখা আরও জটিল হয়ে উঠছে। আর মোবাইল প্রযুক্তির অভূত পূর্ব উৎকর্ষতায় হঠাৎ আগত এই পরিস্থি'তি ব্যাংকের চিরায়ত ভূমিকা, কর্তৃত্ব ও অবয়বকে যুগ সন্ধি ক্ষনে উপনীত করেছে। পাশাপাশি যে মুদ্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের জন্ম ও বিকাশ তার চরিত্র ও চেহারা আমূল পাল্টে গেছে। জন্ম লগ্নে আদিকালের মূল্যবান বস্তু' বা রত্ন-পাথর বা ধাতব মুদ্রার ব্যাবহারিক মূল্য ও মূল্যমান দুটোই থাকলেও কালক্রমে আধুনিক মুদ্রা ব্যবস্থায় কাল্পনিক মূল্য আরোপিত ব্যবহারিক মূল্যহীন কাগুজে (তা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বা ফিয়াট যাই হউক) মুদ্রার প্রচলন। অনলাইন ব্যাংকিং এর বিকাশ মুদ্রাকে কেবল মাত্র ইলেকট্রনিক কোডে নির্মিত বিমূর্ত ধারণায় পরিণত করেছে যা কারও ক্রয় ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট ”সংখ্যা” মাত্র। বর্তমান ব্যাবস্থায় সারা জীবনে একটি মুদ্রাও স্পর্শ না করে মুদ্রার সমস্ত প্রয়োজন মিটানো বা মালিকানা বজায় রাখা সম্ভব!! তাই মুর্ত মুদ্রার ধারক হিসাবে যে ব্যাংক ব্যাবস্থার ক্রমবিকাশ বিমূর্ত মুদ্রার আগমনে আজকে আমরা ব্যাংক শাখা বলতে যা বুঝি ভবিষ্যতে তার অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে, কিম্বা দেখা যেতে পারে সম্পূর্ন ভিন্ন চেহারায় ভিন্ন দক্ষতায় এবং ভিন্ন প্রয়োজনে। এই পরিবর্তন মুদ্রা ব্যাবস্থার পরিচালন অবকাঠামো হিসাবে ব্যাংক ব্যাবস্থার প্রয়োজন ও ভূমিকাকে নতুন ভাবে নিরূপণ করবে আগামীর অদৃশ্য মুদ্রা। ইতোমধ্যেই প্রায় সব ক্ষেত্রেই মুদ্রা তার ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার চেয়ে আধুনিক ব্যাংক ব্যাবস্থার নিরাপত্তা আরও বেশী জটিল ও কঠিন হয়ে উঠবে কারণ আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থায় ব্যাংকের কোন নিরাপত্তা সীমা থাকবে না। ব্যাংক স্থানীয় হলেও ঝুঁকি সব সময়ই আন্তর্জাতিক। তাই আমাদের অনলাইন ব্যাংকিং অবকাঠামো উন্নত বিশ্বের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও মোকাবেলা করতে হবে উন্নত বিশ্বের মত একই ঝুঁকি। এক সময় কেবল মাত্র গোপন পাসওয়ার্ড লেন দেনের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হলেও বর্তমানে কেবল পাসওয়ার্ড নির্ভর সুরক্ষা দুর্বলতম সুরক্ষা যা যত ক্ষন আক্রান্ত না হয় তত ক্ষন সুরক্ষিত। কারণ পাসওয়ার্ড যত দুর্বোধ্য বা পেটা ডিজিটের হোক জালিয়াতরা তা চুরি করতে সক্ষম। কারণ রেলগাড়ির গতিতে ব্যাংক জালিয়াতি প্রতিরোধ সক্ষতা অর্জন করে আর জালিয়াতরা সুপারসনিক গতিতে তাদের কৌশল বদলায় কারণ সাইবার ক্রাইমে যারা জড়িত তারা এই গ্রহের অন্যতম সরা কিছু বুদ্ধিমান প্রাণী! বর্তমানে ব্যাংক যে কৌশলই অবলম্বন করুক তা দুদিন আগে পরে জালিয়াতরা তা ভাঙ্গতে সক্ষম। এখন তারা এতটাই দক্ষতা অর্জন করেছে যে কোন একক পদ্ধতিতে এর প্রতিকার সম্ভব নয়। তাই ব্যাংকগুলি মাল্টি চ্যানেল/লেয়ার পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক আইডি অথেনটিকেশনসহ নানা উপায় নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে।
এই বাস্তবতায় প্রযুক্তি একই সাথে ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা। আর আমাদের মত অ/অর্ধ শিক্ষিত বা সার্টিফিকেট নিরূপিত এবং পরিসংখ্যানে প্রমাণিত শিক্ষিত জাতির জন্য গোদের উপর বিষের ফোঁড়া প্রযুক্তি বিমুখ এবং অদক্ষ ব্যবহারকারী গ্রাহক। কারণ বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংক ব্যাবস্থায় এর নিরাপত্তা হুমকি যেমন বহুমুখী তেমনি এর প্রতিরোধেও দরকার বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ। কেবল ব্যাংক বা সরকার কারও পক্ষেই একক ভাবে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়, যদিনা এর ব্যবহারকারী গ্রাহক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং এর জন্য যথাযথ জ্ঞান, দক্ষতা, সক্ষমতা ও সচেতনতা বোধ অর্জন করে।

ঋণের জাল!

ঋণ বা অনুদান বা সাহায্য কোনটাই দারিদ্রের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর অস্ত্র নয় যা ইতোমধ্যে বহুল প্রমানিত ও স্বতসিদ্ধ প্রপঞ্চ! এগুলি আসলে পুঁজিবাদের স্টান্ট যাতে মানুষকে সাময়িক ভাবে ধোকা দিয়ে অধিকার বোধহীন করে, তাদের বিমোহিত করে অন্য দিকে বড় ফায়দা লুটে। দারিদ্রের বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর অস্ত্র হল এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্থায়ী সক্ষমতা গড়ে তোলা। অনেকেই বলে থাকেন ক্লিন্টন পরিবারের সাথে বন্ধুত্বের কারনে ড. ইউনুস ও মাইক্রো ক্রেডিটকে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা প্রমোট করেছে যদিও মাইক্রো ক্রেডিটের ফলাফল নিয়ে তারা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলেন যে এর দ্বারা দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠানো যাবে না। কিন্তু কর্পোরেট আমেরিকার (বিশ্ব ব্যাংক) বিশ্বব্যাপী বেসরকারী করনের প্রভাব জন জীবনে এতটাই নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি করত যে জন বিক্ষোবের মূখে এই প্রক্রিয়া চালানো প্রায় অসম্ভব ছিল। কারন বেসরকারী করনের ফলে অনেক সেবা যা আগে ফ্রী পায়া যেত তা এখন বাজার মূল্যে কিনে নিতে হচ্ছিল। মাইক্রো ক্রেডিটের কল্যানে মানুষের হাতে কিছু বাড়তি অর্থ যাওয়ায় তা উৎপাদনমূখী কাজে বিনিয়োগের বদলে বাড়তি জীবন যাত্রার ব্যায় মেটাতে অধিকাংশই খরচ হয়ে গেছে। দরিদ্ররা দরিদ্রই আছে কেবল মাথার উপর জমেছে ক্রমপুঞ্জিভূত ঋণ। মাইক্রো ক্রেডিটের ফল যাই হোক বিশ্ব ব্যাংক ১০০ ভাগ সফল তাদের সর্বগ্রাসী বাণিজ্যের থাবা বিস্তারে। আমার ধারনা ইউনুস সাহেব হিলারীকে নিয়ে পালিয়ে আসলেও ক্লিন্টন তার সহযোগীতা অব্যাহত রাখত অন্যথায় মাইক্রো ক্রেডিট চালু না থাকলে SAP & ESAP প্রায় অসম্ভব ছিল। বিশ্বকে বেনিয়াদের হাতে তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে ইউনুস সাহেব অজ্ঞাতে যে পাপ করেছেন তিনি তার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবেই হয়ত এখন 'সামাজিক ব্যাবসা'র পথে নেমেছেন!
NO Credit, NO Donation!
Healthy Families, Wealthy Nation!!
#Familipreneurship

দরকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল!

দৃশ্যত সরকারি নীতিমালা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা ও 'সেবার' ব্রত নিয়ে দেশের সবগুলো তপশীলি ব্যাংক এসএমই খাতে ঋণ দিয়ে থাকে আর সঙ্গত কারণেই এই খাতে ঋণের সূদের হার বেশি। গড়ে বাৎসরিক প্রায় পঁচিশ ভাগ এর উপর সূদ ও অন্যান্য খরচ, এর অন্যতম কারণ এই ঋণের বিপরীতে 'যোগ্য' জামানত না থাকায় একদিকে অনিয়মিত ঋণের ঝুঁকি বৃদ্ধি অন্য দিকে সেই ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য প্রভিশন ব্যায় বৃদ্ধি, এই দ্বিমূখী কারণে ব্যাংক গুলির পক্ষে এর চেয়ে কম খরচে সেবা দেয়া আসলে সম্ভব নয়। আবার এই খরচে তহবিল সংগ্রহ করে কারবার টিকিয়ে রাখাও মুশকিল, তাই ব্যাংক গুলি কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠিত ও লাভজনক এসএমইতেই বিনিয়োগে আগ্রহী আর পুঁজির সুরক্ষার্থে সেটাই স্বাভাবিক। তাই সম্ভবত বাংলাদেশের কোন ব্যাংকই (সরকারি ছাড়া) নতুন এসএমই স্থাপনে ঋণ দেয় না আর সরকারী ব্যাংক গুলিতো আর সাধারণ জনগণের নয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি নতুন এসএমই স্থাপন সব সময়ই ঝুঁকি পূর্ণ ও এর সাফল্য ব্যাক্তি কেন্দ্রীক, এর কোন প্রমিথ ও নৈর্বাক্তিক মাপ কাঠি নাই যা দিয়ে এর ভবিষ্যত Calculate করা যাবে, বড় জোর Speculate করা যায় । কিন্তু নীতিগত ভাবে বাংক Calculative, Speculative নয় কারণ ব্যাংকের অর্থ জনগণের, কোন ঝুঁকি পূর্ণ খাতেই ব্যাংকের বিনিয়োগ করা উচিৎ নয়। এসএমইতে অর্থায়নের জন্য ব্যাংক যেমন উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নয় তেমনি এসএমই এর জন্যও এটা লাভজনক তহবিলের উৎস নয়। তারপরেও এই ব্যাবস্থা বহাল থাকায় উচ্চ সূদ ব্যায় জনীত কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব ফেলে। নতুন এসএমই তৈরিতে অর্থায়নের জন্য দরকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল যা ছাড়া আসলে এন্টারপ্রেনর সৃষ্টি অসম্ভব। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকই এন্টারপ্রেনরদের ঋণ দেয় না, ঋণ দেয় প্রতিষ্ঠিত ও সচ্ছল ব্যবসায়ীদের!

বাংলাদেশের অনলাইন ব্যাংকিং!

অনলাইন ব্যাংকিং আমাদের প্রথাগত অনেক জটিল 'ব্যাংকিং' কাজকে সাধারণ মামুলি কাজে পরিণত করেছে, বিশেষ করে অর্থ স্থানান্তর। বাণিজ্যিক লেনদেনকে দ্রুত, সহজ ও সস্তা করেছে যা ইতোমধ্যে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। অর্থের কারবারে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মনোপলি অনেক আগেই চলে গেছে, মানি সার্ভিসসহ অনেক লেনদেনই এখন অব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান যেমন পেপাল, গুগল ওয়ালেটসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাচ্ছে। যদিও বিশ্ব চলে ইকমার্সে, এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে অনলাইন ব্যাংকিং মূলত অর্থ স্থানান্তরেই সীমাবদ্ধ, যদিও অনলাইন বিল কালেকশন অনেকটাই প্রচলিত কিন্তু অনলাইন কেনাকাটা বা লেনদেন এখনও 'ফর ডিসপ্লে অনলি'। আমাদের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার মোট ব্যায়ের অনেক খানিই এই ব্যাবস্থায় জড়িত অর্থের লেনদেন ও মুদ্রা বিনিময় জনিত ব্যায়ের কারণে। অনলাইন ব্যাংকিং এর সুপরিকল্পিত ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেন এর 'অটোমেশন' বা ইলেকট্রনিক মানির সার্বজনীন ব্যবহার একদিকে যেমন মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জনিত ব্যায় কমাবে তেমনি সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে যা আখেরে উৎপাদন ব্যায় হ্রাস করবে।
বাংলাদেশের অনলাইন ব্যাংকিংএবং লেনদেন ব্যাবস্থা ততক্ষন পর্যন্ত 100% নিরাপদ যতক্ষন না আক্রান্ত হচ্ছে, আক্রমন হলেই এর নিরাপত্ত্বা 000%, এইটা কোন ফ্যাক্টর নয় আমরা কয় ফ্যাক্টর নিরাপত্ত্বা ব্যাবস্থা ব্যাবহার করছি! অনলাইন ব্যাংকিং বা লেনদেনের সুবিধা বহুবিধ কিন্তু সবচেয়ে বড় অসুবিধা এবং হুমকি এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা যার ডাক নাম হ্যাকিং আর ভাল নাম সাইবার ক্রাইম! আর এই হ্যাকিং কখনই শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর কারণ এটাই বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে লাভ জনক পেশা হওয়ায় এই পেশায় এই গ্রহের অন্যতম সেরা মেধাবী প্রাণীরা জড়িত। অনলাইন ঝুঁকি জানার জন্য আমাদের ঐ হ্যাকারদের জন্যেই অপেক্ষা করতে হয়, কারণ ঝুঁকিটি তখনই জানা যায় যখন কেউ আক্রান্ত হয়। তাই সাইবার অপরাধ আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ করা সম্ভব নয়, কেবল মাত্র আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত রাখা এমনকি তা এক এ নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে সে জন্য দরকার এর সাথে সংশ্লিষ্ট সেবা দাতা, গ্রহীতা, প্রযুক্তি সহায়তাকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও সমমানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তার মান নির্ভর করে এর সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমূহের দূর্বলতম মানের উপর। যা অনলাইন তা অবশ্যই আন্তর্জাতিকও বটে, তাই বহমান নদীর যেমন একটা নির্দিষ্ট অংশের পানি পরিস্কার রাখা সম্ভব নয় তেমনি একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোন ক্রমেই শতভাগ নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে আমার ব্যক্তিগত অনুমান সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলার মান নির্ভর করে 25% সেবা দাতা যেমন ব্যাংকি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, 25% ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও 50% ব্যবহারকারীর উপর। এই বিবেচনায় বাংলাদেশের অনলাইন সেবাদাতা ও প্রযুক্তি যদি তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যকর থাকে তাহলে আমাদের অনলাইন/ইব্যাংকিং ব্যাবস্থা গাণিতিক ভাবে 50% আর বাস্তবে 00% নিরাপদ! কারণ হ্যাকারদর সবচেয়ে সহজ প্রবেশদ্বার ব্যাবহারকারীর যন্ত্র, আর সেই যন্ত্রে যদি পাইরেটেড সফটওয়ার থাকে তবে তাকে তুলনা করা যেতে পারে সেই গোডাউনের সাথে যার ভিতরে আছে মূল্যবান সম্পদ, লৌহকপাটে বিশাল তালা কিন্তু একদিকে দেয়ালই নাই! তার উপর অনেকের দরজা আছে তো তালা নাই, কারও আবার দরজাটাও নাই। আমাদের কপাল ভাল এখনও বিদেশী অনেক গোডাউনেরই ভাল তালা নাই আবার ঐসবে আমাদের চেয়ে দামী মাল আছে তাই হ্যাকারদের চোখ এখনও সেভাবে আমাদের উপর ফেলার প্রয়োজন হয়নি।

নোনা কাব্য!

সন্দেহ নেই পৃথিবী দিনে দিনে আধুনিক থেকে আধুনিকতর ও উন্নততর হচ্ছে, নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের হুমকিতে কোন মতে টিকে আছে আমাদের এত দিনের কিংবদন্তি কল্পনার সীমানা। প্রযুক্তি বিস্ফোরণ বিশ্বের উৎপাদন কাঠামো আমূল বদলে দিয়েছে আর পুঁজিবাদ লিজ নিয়েছে আমাদের জীবন, মনন ও সংস্কৃতি। বর্তমান সময়ের পরিভাষায় উন্নতি মানে পুঁজিবাদের উন্নতি আর সব কিছুর সুফলের মালিকানা পুজিবাদের কিন্তু কুফলের দায়ে গরিবের মনপলি। পুঁজিবাদে মানুষ মানে গরিব মানুষ, উৎপাদনের ইনপুট মাত্র যার অস্তিত্ব মাপা হয় পরিসংখ্যানে। পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় সফলতা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাবহৃত সবচেয়ে বেশী দরকারী এবং দামী উপাদান ‘শ্রম’ সবচেয়ে সস্তায় এবং সহজে পাবার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছে আর পুঁজিবাদের তাবেদার গণতন্ত্র মানুষকে কয়লার দামে ‘শ্রম’ নামক হিরা বেচতে বাধ্য করছে, পরিনত করেছে বন্ডেড লেবারে। মানুষের চিরচেনা অনেক কষ্টকর কাজই এখন যন্ত্রের ঘাড়ে কিন্তু যন্ত্রের দ্বারা সম্ভব নয় এবং যন্ত্রের চেয়ে কম খরচে সম্ভব এমন সব কাজ এখন মানুষের ঘাড়ে মাত্র দুটো শুকনো রুটির বিনিময়ে। প্রতিটি আলো ঝলমল সুউচ্চ ভবনের গাঁথুনিতে মিশে আছে শত শত আধা-পেটা গরিবের ঘাম, মানুষের রক্তে সাজানো হয় নাগরিক পসরা। প্রতিটি নাগরিক সুখের নীচে চাপা পরে কাল স্রোতে মিশে যায় অজস্র মানুষের বোবা কান্না, দেউলিয়া স্বপ্নেরা পিসে মরে বিকলাঙ্গ হয় বিলাসের বড় বড় চাকাতে। ধরনীর জরায়ুতে ঘামের বীজে ফলা ফসল আর দেহ কলে তৈরী প্রায় সবই চলে যায় জারজ রসনার পুজাতে আর রাতের চোখে ঘুম নামে বুভূক্ষদের গোঙ্গানী সঙ্গীতে।
গত শতাব্দীর সেরা আশির্বাদ পরিবেশ সচেতনতা আর এর অভিশাপ হিসাবে কায়িক শ্রম নির্ভর এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল উৎপাদন ব্যবস্থার ভৌগোলিক ঠিকানা এখন গরীব বিশ্ব যার প্রত্যক্ষ ফল হিসাবে প্রতি রাতে আমার ঘড়ের পাশে লেখা হয় অসংখ্য অচেনা সেলাই দিদি মণিদের অজানা নোনা কাব্য।


You may like:

মোবাইল ব্যাংকিং নাকি গিনিপিগ ব্যাংকিং......!!!

বিল গেটস মোবাইল ব্যাংকিং প্রসঙ্গে বলেন, "Bangladesh is adopting WILD technology"!
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং বুম তামাম বিশ্বেই বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত এর বাজার মূল্যের কারণে , তাই এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে কর্তারা বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। সাময়িক এই সাফল্যের পুরস্কার আসলে আমাদের নজর অন্য দিকে ঘোরানোর জন্য । সত্যিকার অর্থে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনার উপযোগী আইনী অবকাঠামো গোটা বিশ্বেই এখন স্থীর হয়নি, তার উপর এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এখনো পরীক্ষাধীন। বিশ্বের বেশীরভাগ দেশই খুব সতর্কতার সাথে আস্তে আস্তে এগুচ্ছে যাতে কোন সিস্টেম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে না হয়, আর হলেও যেন মোকাবেলা করা যায়। আর আমরা ছুটছি চোখ বাঁধা ষাঁড়ের মত, পিছু ফেরার উপায় নাই। অথচ কোন সিস্টেম বিপর্যয় ঘটলে তা মোকাবেলার নূন্যতম সক্ষমতাও বাংলাদেশের নাই। ধান, টিকা বা 'পেট কাটা' ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের কিছু অভাগা ভাই বোনদের গিনিপিগ বানিয়েছিল, এবার স্বাধীন বাংলাদেশ পুরাই গিনিপিগ বিশ্বকে নিরাপদ মোবাইল ব্যাংকিং উপহার দেবার জন্য, সামনে হয়তো আরও বেশ কিছু পুরস্কার এমনকি নোবেলও আসতে পারে! এটা যে কত বড় বাণিজ্য বাজার তা এই মুহূর্তে অকল্পনীয়।
বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিল গেটস বলেন, "Bangladesh is adopting WILD technology"! কথাটা আবার ফলাও করে প্রচার করাও হচ্ছে।
বিল গেটস এটা প্রশংসা করেছেন নাকি আশংকা প্রকাশ করেছেন সেটা নিশ্চিত না হলেও একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে আমাদের বর্তমান মোবাইল ব্যাংকিং অবকাঠামোর সিস্টেম সিকিউরিটি হিসাবে 'মোনাজাত' ছাড়া বাজারে আর কোন এন্টিভাইরাস বা কিট নাই!

You may like:

গরু মেরে জুতা দান!

মোবাইল অপারেটরদের দান খয়রাতী এখন সর্বজন বিদিত এবং বহুজন প্রত্যাশিত। বর্তমানে দেশে এগার কোটি আশি লাখের উপরে মোবাইল কানেকশন আছে (বিটিআরসি, জানুয়ারী/২০১৪) যাদের বেশীর ভাগ চালু আছে, কিছু সাময়িক ভাবে, কিছু চিরতরে বন্ধ আছে। আমরা প্রত্যেক দিন নানা ভাবে মোবাইলে অতিরিক্ত খরচ গুনতে বাধ্য হই। দুর্বল নেটওয়ার্কে কথা না হলেও বিল, পাল্স নামক চৌর্যাস্ত্র/সিঁদকাঠি, নানা জটিল প্যাকেজের কুটিল ধুম্রজাল, ধোঁকাবাজি এসএমএস ও ভ্যালু এডেড সেবার ফিসিং/খপ্পড় তো আছেই, সেই সাথে গ্রাহকের ইউসেজ পরিমাপের সঠিকতা যাচাই এর অক্ষমতা কোম্পানিগুলোকে কেবল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারেরই সূযোগ দেয়নি, দিয়েছে শয়তানের স্বাধিনতাও। যদি ঘোষিত সংখ্যার অর্ধেক মোবাইলও চালু থাকে আর নানা ফাঁদে দৈনিক গড়ে দশ টাকা ঠকে তাহলে প্রতি মাসে ঠকে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশী! অনেক দিন বন্ধ থাকা সিমের টাকা এমনি এমনি গায়েব হওয়া ছাড়াও চিরতরে বন্ধ সিমের টাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হলেও এর সমষ্টি অকল্পনীয়ও রকমের বড়। আমরা ভোক্তা স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে চিল্লা পাল্লা কম করিনা, কিন্তু দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভোক্তা ঠকানোর এই মহা অঘটনটি দিনের পর দিন চলে আসছে সবার নাকের ডগায় অথচ অবিশ্বাস্য ভাবে তা এখনো সম্পূর্ণ লোক চক্ষুর আড়ালেই পরে আছে! একবার ভেবে দেখেছেন এ পর্যন্ত আপনি কত ঠকেছেন?!
পৃথিবীর কোন দেশেই অদাবীকৃত বা পরিত্যাক্ত সম্পদ কোন বাক্তি বা প্রতিস্ঠান দখল/ভোগ করতে পারেনা। যেমন কোন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে যদি গ্রাহকের অর্থ-সম্পদ একটা নির্দ্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অদাবীকৃত থাকে তাহলে তা কেন্দ্রীয় বাংকে পাঠাতে হয়। কিন্তু মোবাইল এর অদাবীকৃত ও পরিত্যাক্ত ব্যালান্স কোম্পানিগুলো একেবারে নিজের বগলদাবা করেছে কোন বাধা ছাড়াই। জনস্বার্থে সরকারের উচিৎ অবিলম্বে এ বিষয়ে আইন করা এবং এযাবৎ হজমকৃত টাকা কোম্পানিগুলোর কাছে থেকে সূদাসলে আদায় করে জনস্বার্থে ব্যায় করা, কারণ এই অর্থের প্রকৃত মালিক জনগন।

You may like: