Wednesday, October 21, 2015

প্রতারণার নতুন নাম ‘স্পুফিং-Spoofing’!

প্রতারণার নতুন নাম ‘স্পুফিং-Spoofing’!বাঁচতে হলে জানতে হবে।। 
>>“হ্যালো আমি xxxx ফোন কোম্পানী থেকে বলছি, আপনি আমাদের বিশেষ ক্যাম্পেইনে পাঁচ হাজার টাকার টক টাইম জিতেছেন সেটা একটিভেট করার জন্য এখুনি তিনশ’ টাকার একটি কার্ড নিয়ে এসে তার নাম্বার জানান।“
>>”হ্যালো আমি xxxx কোম্পানি থেকে বলছি, আমাদের নতুন প্রোডাক্ট লন্সিং উপলক্ষে লটারিতে র্যান্ডমলি বাছাইকৃত মোবাইল নাম্বার হতে আপনার এই নম্বরে একটা ব্র্যান্ড নিউ গাড়ী পেয়েছেন, গাড়ীর বদলে নগদ বিশ লাখ টাকা নিতে পারবেন তবে তার আগে কাগজ পত্র ঠিক করতে আজকের মধ্যে এই নম্বরে xxটাকা বিকাশ করে পাঠান।“
>>”হ্যালো আমি আপনার স্বামী/স্ত্রীর সহকর্মী বলছি, আপনার উনি এক্সিডেন্ট করে এখন হাসপাতালে, জরুরী অপারেশনের জন্য xxটাকা লাগবে, এখুনি xxxxনম্বরে বিকাশ না করলে ডাক্তার চিকিৎসা শুরু করবে না, রুগীর অবস্থা খুব সংকটাপন্ন।“
>>”হ্যালো, বল আলহামদুলিল্লাহ! তোর উপর খোদার রহমত নাজেল হয়েছে, তুই অগাধ টাকা পয়সা ও সোনা দানা পাবি তবে সে জন্য xxxমাজারে সিন্নি দিতে হবে।“
 উপরের সংলাপ গুলি মোবাইল ফোনে প্রতারণার কৌশল হিসেব বহুল ব্যবহৃত যা ইতোমধ্যেই আমরা জেনে গেলেও প্রতারকরা নিত্য নতুন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তাদের সাফল্য অব্যাহত রেখেছে। উপরের কৌশলে প্রতারকরা কখনো মানুষের লোভ আবার কখনো নির্বুদ্ধিতাকে কাজে লাগিয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে কার্যকর রক্ষাকবচ, কিন্তু ঘটনা যদি এমন হয় যে,
১। মনে করুন আপনি মাঠ পর্যায়ের চাকুরীজীবী, আপনাকে ফোনে বলল,”হ্যালো আমি এমডি/চেয়ারম্যান বলছি, দশ মিনিটের মধ্যে তোমার কাছে লোক যাচ্ছে তাকে xx টাকা দিয়ে দাও (কিম্বা অন্য কোন ভাবে পাঠাতে)।“ এমডি’র সাথে নিয়মিত কথা না হলেও তাঁর নাম্বার আপনার মোবাইলে সেভ করা আছে এবং কলটি সেই নাম্বার থেকেই! আপনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই আদেশ পালন করলেন এবং পরে জানলেন এমডি আপনাকে ফোনই করেনি,  বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রতারণা!
২। আপনার স্বামী/স্ত্রীর মোবাইল থেকে আসা কলে অন্য কেউ বলল, “আপনার স্বামী/স্ত্রী মারাত্মক দুর্ঘটনায় অজ্ঞান, চিকিৎসার জন্য/হাসপাতালে নেয়ার জন্য xxx টাকা পাঠান।“ আপনি কাল বিলম্ব না করে টাকা পাঠানোর পর আপনার স্বামী/স্ত্রী সুস্থ ভাবে বাসায় আসলে জানতে পারেন এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি তবে ঐ একই সময়ে তাকে তার  মোবাইল কোম্পানি থেকে ফোন করে সিস্টেম আপগ্রেডের জন্য কিছুক্ষণ মোবাইল বন্ধ রাখতে বলেছিল যাতে ব্যালেন্স ডিলিট না হয়ে যায়।
 উপরোক্ত ঘটনা দুইটি আপাত দৃষ্টে অসম্ভব মনে হলেও এটাই এখন প্রতারণার নতুন কৌশল যার নাম    ‘স্পুফিং-Spoofing’! এই কৌশলে সফটওয়ারের মাধ্যমে কলার নিজের নাম্বার হাইড করে তার স্থলে কলারের ইচ্ছে মত নাম্বার প্রদর্শন করে রিসিভারের মোবাইলে। এরকমই একটি সফটওয়ারের নাম ‘Caller ID Spoofer’ যা ইন্সটল করতে হয় কলারের মোবাইলে, তারপর এর মাধ্যমে কল করার সময় কলার নাম্বার হিসাবে প্রদর্শনের অপশনে যে নাম্বার দেয়া হবে রিসিভারের মোবাইলে কলারের প্রকৃত নাম্বারের বদলে ঐ ফেক নাম্বার প্রদর্শিত হবে কলার হিসেবে।
এধরনের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে হলে অস্বাভাবিক যে কোন কলের ক্ষেত্রে ঐ নাম্বারে কল ব্যাক করাই নিশ্চিত হওয়ার সহজতম উপায় কারণ কল ব্যাক করলে তা প্রতারকের কাছে না গিয়ে প্রকৃত নাম্বারেই যাবে।

কমেই যখন বেশী লাভ!

৫+৫=১০ হলে, ২৫ থেকে ১০ বিয়োগ করলে বিয়োগফল ৫ এর কম!😀
অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান গুলির জন্য সবচেয়ে সস্তা এবং কষ্টকর তহবিলের উৎস কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাধারনত বাজার দরের অর্ধেক দামে তহবিল পাওয়া গেলেও খাজনার চেয়ে বাজনা বাজে বেশী শর্তের বেড়া জালে। তবুও স্বল্প ব্যয়ের কারনে সব ব্যাংকই চেষ্টা করে যত বেশী সম্ভব কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহের, অগত্যা বাজার থেকে দ্বিগুন বা তারও বেশী দামে তহবিল সংগ্রহ করে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহের একটা খোলা দরজা আছে! এসএমই খাতে বিতরন কৃত ঋণের শতভাগ তহবিল পাওয়া যায় তেমন কোন শর্ত ছাড়াই। যেহেতু ব্যাংক গুলির ঘোষিত স্প্রেড ৫% এর নীচে তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫% সূদে টাকা দেয় একটু বেশীই লাভে ১০% সূদে বিনিয়োগের জন্য। কিন্তু বেশীর ভাগ ব্যাংক এই খাতে স্বল্প সূদে সহজ লভ্য তহবিল না নিয়ে বেশী সূদে বাজার থেকে আমানত সংগ্রহ করে এসএমই ঋণ বিতরন করে।
বাহ! ভাল তো!!
ভাল না!?
😁৫ টাকায় কিনলে ৫ টাকা স্প্রেডে ১০ টাকায় বেচতে হয় আর ১০ টাকায় কিনলে ৫ টাকার কম স্প্রেডে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেচা যায়!
২৫%-১০%<৫% প্রমানিত!

পূঁজি যখন কথা কয়, ঈশ্বর তখন ঠাসি খায়!

বিশ্বব্যাংকের সূত্রে এডিবি’র হিসাব মতে ২০০৬ সালে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারী এন্টার প্রাইজ এর সংখ্যা ছিল মোট ৬.৮ মিলিয়ন (সে হিসাবে ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০মিলিয়নের উপরে এবং লাভজনক ও নিশ্চিত বিনিয়োগের সুযোগও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে), তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১ মিলিয়ন সফল উদ্যোক্তা আছে যাদের কাছে নিশ্চিন্তে ৩৯৫.৯৭ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করা যায়! নতুন এসএমই প্রতিষ্ঠা বা কোন রকমে টিকে থাকাদের উন্নয়ন কোন প্রকল্পে নেই। কারণ সব প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ঋণের এই বিস্তৃত নতুন বাজারে পুঁজি’র মুনাফা নিশ্চিত করা, এসএমই খাতের উন্নয়ন নয়। সব ধরণের পুঁজি যাতে নিরাপদে স্ব স্ব কারবার করতে পারে তার পরিবেশ তৈরি করাই দাতাগোষ্ঠীর কাজ। সেই পুঁজির বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার প্রচ্ছন্নভাবে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী যেসব উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও সামর্থ্য আছে কেবল তারাই এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। তেলীর মাথায় তেল নয়, এ যেন পুঁটিমাছ দিয়ে বোয়াল ধরা আর কি! প্রকৃত পক্ষে এসএমই খাতে ব্যাংক গুলির ঋণ দেবার কারণ কম ঝুঁকিতে উচ্চ সূদ আয়ের লোভ, এখানে নীতি বা মূল্যবোধের বালাই নাই।
দাতাগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজার ব্যাংক, মহাজন ব্যাংক, ঈমানদার ব্যাংক সহ নানা নামের নানা ঢং এর আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবারই নজর এখন এসএমই এর দিকে। কিন্তু সব এসএমই এর দিকে নয়, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠিত ও লাভজনকভাবে পরিচালিত এসএমই এর দিকে। বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য দাতা ও বন্ধুরা মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেমন, এডিবি ১২৬.৬৭ মিলিয়ন ডলার এর মূল প্রকল্প নং-৩৬২০০, আগস্ট ২০০৯ পর্যন্ত, পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ অক্টোবর ২০০৯ হতে সেপ্টেম্বর ২০১২ পর্যন্ত । এই প্রকল্পে এডিবি ৭৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে ৮ বছরের গ্রেস পিরিয়ড সহ ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য ঋণ হিসাবে। যার সূদের হার গ্রেস পিরিয়ডে ১% এবং অবশিষ্ট সময়ের জন্য ১.৫% । স্বল্প সুদের কারণে দৃশ্যত এটি একটি মহৎ উদ্যোগ মনে হলেও এর আসল মোজেজা অন্য জায়গায়। কারণ এই ঋণ ডলারে পরিশোধ করতে হবে। আর অতীত অভীজ্ঞতানুযায়ী টাকার অবমূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় আগামী ৪০ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বর্তমানের অর্ধেকেরও নীচে নেমে আসবে। বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কারণেই তা অনিবার্য। ফলে গৃহীত অর্থের বহুগুণ বেশী পরিশোধ করতে হবে ভবিষ্যতে। শুধু কি তাই! এই ঋণের সাথে বিনামূল্যে আরও আছে হাজারো শর্তের বেড়াজাল। এই ঋণ বা বিনিয়োগের আসল লক্ষ্য মুনাফা কামানো নয়, শর্ত দেবার ক্ষমতা অর্জন। পুঁজি’র সুবিধা মত সবকিছু সংস্কার, বদল করার শর্ত। সবধরনের পুঁজি যাতে নির্বিঘ্নে কারবার করতে পারে তার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা অর্জন।
<<১% সূদে ডলারের ঋণ টাকায় কত পার্সেন্ট দাঁড়ায় তার একটা নমুনা>> 
সাধারনত এই ঋণ গুলি ৪০/৫০ মেয়াদি হয়, মনে করুন ১৯৭১ সালে ১% হারে ১০০০ ডলার নিয়েছিলাম যা চলতি বছর পরিশোধ্য। তাহলে ডলারের হিসেবে ৪৩ বছরে সরল সূদে ও আসলে পরিশোধ করতে হবে ৪৩০ ডলার সূদ সহ পরিশোধ্য ঋণের পরিমান (১৪৩০ ডলার @৭৮ টাকা) সর্বমোট ১,১১,৫৪০/- টাকা যদিও টাকার হিসাবে ১৯৭১ সালে ঋণ নিয়েছিলাম মাত্র (১০০০ ডলার @৭ টাকা ৮৬ পয়সা) ৭,৮৬০/- টাকা, অতএব ৪৩ বছরের ৩৩৮০ টাকা সূদ ও আসল মিলে পরিশোধযোগ্য মাত্র ১১,২৯৩/-টাকা!
কেবল মাত্র ডলারে পরিশোধ্য হওয়ায় মাত্র (১০০০ ডলার) ৭৮৬০ টাকা ঋণের বিপরীতে পরিশোধ করতে হচ্ছে ১০৩৬৮০/- টাকা সূদসহ মোট ১,১১,৫৪০/- টাকা! 
এখন আপনি হিসাব করে দেখুন ডলারের ১% টাকায় বার্ষিক ২৪১% এরও বেশী,
শুভংকরের ফাঁকিটা এখানেই।

দাস কাব্য!

মানুষ অভ্যাসের দাস নাকি অভ্যাস মানুষের দাস তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দাস মানুষই যে আমাদের এই প্রগতির গতি দাতা ও ভিত্তি নির্মাতা তা সর্বকালের প্রমাণিত সত্যি। সভ্যতার ঊষা লগ্ন থেকেই আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা মূলত দাস নির্ভর ছিল, সামন্ত প্রভুদের প্রয়োজনে ভূমি দাসদের উন্মেষ ঘটলেও শিল্প বিপ্লব পরবর্তীতে এই প্রথায় কিছু পরিবর্তন আসে, আস্তে আস্তে আর্থ সামাজিক প্রেক্ষিতে নগর কেন্দ্রিক শ্রম বাজার বিকশিত হয়৷ সামন্ত প্রভুদের জায়গায় শিল্পপতি নামে নতুন প্রভুর সৃষ্টি হয়। এই প্রভুদের প্রয়োজন থেকেই শ্রমিক নামক শিল্প দাসদের জন্ম।

পূর্বতন দাস প্রথা সামন্ত যুগের কৃষি উৎপাদনের চাহিদা মেটালেও এই নতুন প্রেক্ষাপটে নতুন ধরনের বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন দাসের প্রয়োজন দেখা দেয়৷ সামন্ত দাসদের চেয়ে শিল্প দাসদের ভাগ্য কিছুটা ভাল ছিল, অন্তত তাদের স্বীকৃত কিছু নির্দিষ্ট অধিকার ছিল নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে তবে এক্ষেত্রে অধিকার বা দায়িত্বের বিষয়ে তাদের নিজেদের পছন্দের তেমন কোন সুযোগ ছিল না, এমন কি চুক্তির চেয়ে বেশী দায়িত্ব পালনে বাধ্য হলেও প্রাপ্য অধিকার তো দূরে থাক প্রভুদের স্বেচ্ছা ঘোষিত সুযোগও কখনও পায়নি৷ তুলনা মূলক সরল কিন্তু বড় বড় যন্ত্র নির্ভর কারখানাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীভূত শ্রমিক কলোনির বিকাশ ঘটে।

উনবিংশ শতাব্দীর গোরা থেকেই আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে আর তার ফলে অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন জটিল যন্ত্রের বিকাশ সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। জটিল যন্ত্র পরিচালনা আর বিশাল উৎপাদন ব্যবস্থাপনার জন্য কেবল কায়িক শ্রম নয়, বিশেষ দক্ষতার প্রশিক্ষিত দাসের প্রয়োজন থেকেই নতুন আরেক ধরনের দাসের উন্মেষ ঘটে, আরও নির্দিষ্ট ভাবে বললে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এক গুচ্ছ পূঁজি দাসের উন্মেষ ঘটে, এরা বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নামে পরিচিত হলেও সামগ্রিক ভাবে ‘চাকুরে’ নামে পরিচিত, প্রশিক্ষিত এই দাসদের দক্ষতা ও একাগ্রতায় পূঁজি ও প্রভুদের মেদ দ্রুত ক্রমবর্ধমান। বিংশ শতাব্দীর গোরা থেকেই পূঁজি প্রাচুর্য আর অস্ত্রের সমন্বয়ে মানুষকে ভোগ লিপ্সার মায়া জালে এক অদৃশ্য দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে জগতটাই দাসত্বের স্থায়ী অবকাঠামো হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে যেখানে জন্মিলে দাসত্ব অবধারিত। জয় হোক পূঁজির, জয় হোক ক্ষমতার, জয় হোক শয়তানের আর জয় হোক দাসত্বের।।।

পরম সত্যি ঈশ্বর বলে কিছু নাই!?

আমরা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আর মতবাদকে এক সাথে গুলিয়ে ফেলি! যে কোন মতবাদে কিছু চলক থাকে যা কিছু নির্দিষ্ট অনুমানে এর অধীন তত্ত্বের সাথে পর্যবেক্ষণে মিলে যায় যতক্ষণ না অন্য কোন তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক হয়৷ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কখনই ভুল নয় কিন্তু সীমাবদ্ধ কারণ কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকেই কেবল মাত্র ঐ তত্ত্ব দিয়ে প্রমান করা যায় না, একে প্রমান করতে আরো অনেক তত্ত্বের উপর নির্ভর করতে হয়, যখন কোন তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তখন জন্ম নেয় নতুন তত্ত্ব৷ এভাবেই বৈজ্ঞানিক মতবাদকে ভড় করে নবতর বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের বৈঠা বেয়ে আমাদের জ্ঞানের তরীতে প্রগতি এগিয়ে চলেছে! 

অতি বৃহৎ যেমন গ্যালাক্সী এবং অতিক্ষুদ্র যেমন ইলেকট্রন সরাসরি পর্যবেক্ষন যোগ্য নয়, আর এখানেই তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের জন্ম যেখানে জানা জ্ঞানের মাধ্যমে অজানাকে পর্যবেক্ষন করা হয়। ঈশ্বর প্রশ্নে নানা বৈজ্ঞানিক মতবাদ আছে যার অধীন তত্ত্ব গুলো পর্যবেক্ষণে মিলে গেলেও সে গুলি অন্য কোন না কোন তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক! ঈশ্বর প্রশ্নে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় মতবাদ হল বিগ ব়্যাং, মুলত মোল্লা স্টিফেন হকিং এর প্রধান পুরোহিত হিসেবে আবির্ভূত হবার পর থেকেই বিগ ব্যাং এর জনপ্রিয়তা উর্ধ মুখী! বিগ ব্যাং মুলত মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্ব কিন্তু এই সৃষ্টি প্রশ্নেই ঈশ্বরের ভূমিকা চলে আসে। ডাঃ জাকির নায়েক সহ আরও অনেক ধর্মীয় বুদ্ধিজীবিদের আলোচনায় ঈশ্বরের অস্তিত্বের স্বপক্ষে বিগ ব্যাং তত্ত্ব ব্যবহার করতে দেখেছি আবার নাস্তিকদের আলোচনা একই তত্ত্ব বিপরীত কারণে ব্যবহার করতে দেখেছি। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্ব হলেও আমরা ঈশ্বর প্রশ্নে সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করি এই তত্ত্ব!

সব মতবাদের মতই বিগ ব্যাং মতবাদেও চলক আছে যা অন্য তত্ত্বের মাধমে অনুমিত মান বিগ ব্যাং এর পর্যবেক্ষনের সাথে মিলে যায় কিন্তু তাতে কিছু সমস্যা আছে যার কোন উত্তর এখনও জানা নাই!

যেমনঃ
1় বিগ ব্যাং বিশ্বাস করলে আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে আপনার বাড়ী রাতে যত বড় ছিল সকালে তার চেয়ে বড় সন্ধায় তারচেয়ে আরো বড় এমনি ভাবে নিরন্তর বেড়ে চলেছে আপনার দেহ, চেয়ার টেবিল সব কিছু মহাবিশ্ব সম্প্রসারনের সমান হারে৷

2় কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিশ্বাস করলে আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে আমাদের চারপাশের কোন কিছুই বাস্তব নয়, এগুলোর অস্তিত্ব পর্যবেক্ষকের কারনে, পর্যবেক্ষক যখন দেখে না সেটা তখন সেখানে থাকে না৷ বিগ ব্যাং অনেক খানিই নির্ভরশীল কোয়ান্টাম ফিজিক্স এর মতবাদের উপর!

3় বিগ ব্যাং বিশ্বাস করলে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে সময়ের একটা সুনির্দিষ্ট শুরু আছে কিন্তুু এই শুরুর সময় কে নির্ধারণ করল সেটা অজ্ঞাত, কেন যখন বিগ ব্যাং বা সময় শুরু হল তার আগে পরে কেন হল না তা অমিমাংসিত, যখন কিছুই ছিল না তখন বিগ ব্যাং হলো কোথায় তাও অজানা! 

সর্বপরি ঈশ্বর প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর পাওয়া সম্ভব কিনা তা অমিমাংসিত রেখেও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে আসা যায় যে ঈশ্বর প্রশ্নের সমাধানে আমাদের বিজ্ঞান এখনও সক্ষম নয়৷ তাই বৈজ্ঞানিক ভাবে এখন পযর্ন্ত নাস্তিক হবার কোন সূযোগ নাই, ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ত্ব কোনটাই এখনও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের পরিধির মধ্যে নাই তাই বিশ্বাসই শেষ আশ্রয়! উপরন্তু বিগ ব্যাং এর অনুমানে কিছু পরিবর্তন আনলে বরং তা ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে একটা প্রমান হতে পারে যেমন, ঈশ্বর যখন 'হও' বলেছে তখন বিগ ব্যাং হয়েছে আর ঈশ্বরের নিয়মই বৈজ্ঞানিক সূত্র৷
মোল্লা হকিং এর ঈশ্বর বিষয়ক কিছু বয়ানে তথাকথিত নাস্তিকেরা খুবই উল্লসিত, কিন্তু আমি আতংকিত কেয়ামতের ভয়ে! সাম্প্রতিক ব্ল্যাক হোল বিষয়ক আবিষ্কারে সামান্য কিছু রদ বদল ঘটালে হাশরের মাঠের সাথে ব্ল্যাকহোল হুবহু মিলে যায়, দুটোই ওয়ান ওয়ে সেখান থেকে ফিরে আসার উপায় নাই এবং বর্তমান মহাজগত থেকে সেখানে ভীন্ন নিয়ম৷

বড্ড ছোট এই গ্রহটা!

এই তো মাত্র কয়দিন আগে শরণার্থী বা উদ্বাস্তু নামক সভ্যতার কলঙ্ক আমাদের এশিয়ার নব্য কুলীন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল, সম্প্রতি এই কুলাঙ্গারেরা ইউরোপের সাজানো ঘড় নোংরা করে তাদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। এটা কি মামুর বাড়ির আবদার যে তাদের থাকার জায়গা দিতে হবে? সাত শ' কোটি মানুষের জন্য দুনিয়ায় জায়গা অনেক কম, সে জন্যই তো দুবাইকে কোটি কোটি ডলার খরচ করে সাগর ভরাট করে থাকার জায়গা বানাতে হল!

দুনিয়ার সব মানুষ যদি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছয়টি দেশের যে কোন একটিতে বসবাস করে তাহলেও সে দেশ বর্তমান বাংলাদেশের চেয়ে কম ঘন বসতি পূর্ণ থাকবে, আর এখন পর্যন্ত দুনিয়ার মাত্র চার শতাংশ জায়গায় কেবল জন বসতি গড়ে উঠেছে। আর মানুষ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল জমি পেলেই তাদের ক্ষুধা মেটাতে পারে, তাহলে সামান্য সাত শ' কোটি মানুষের থাকা খাওয়ার অভাব হবে কেন এই গ্রহে???????????!!!!!!!!!!!!!!

এসএমই ধোকায় এন্টারপ্রেনর!

সাম্প্রতিক কালে 'এসএমই' শব্দটি আকাশে বাতাসে সর্বত্রই ভাসে। দাতা, ত্রাতা, সরকার, রাজনীতিবীদ, সূশীল সমাজ,আমজনতা সবাই ঐক্যমত যে এসএমই খাতের উন্নয়ন ছাড়া আমাদের মুক্তি নাই, সঙ্গত কারণেই এই মুক্তির লক্ষ্যে প্রচেষ্টারও কোন কমতি নাই, মাঝে মাঝেই এখানে সেখানে সাফল্যের হাঁসিরও ঝংকার শোনা যায়! 
ভালই তো!! 
ভাল না!?

এসএমই এবং এন্টারপ্রেনর শব্দ দুটি বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত। বিশ্বব্যাপী এসএমই শব্দটি ব্যবহৃত হয় রিপোর্টিং এর উদ্দেশ্যে লগ্নী পুঁজি ও নিয়োজিত মানব সম্পদের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে। ঐতিহ্য গত ভাবে ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের বোঝাতে এন্টারপ্রেনর শব্দটি ব্যবহৃত হলেও সাম্প্রতিক কালে শব্দটি নতুন অর্থে নতুন মাত্রায় ব্যবহৃত হয়। এন্টাপ্রেনর বলতে বোঝান হয় বিশেষ করে সেই সব ব্যক্তিকে যারা ঝুঁকি নিয়ে অথবা নিজস্ব মেধায় ঝুঁকি প্রশমিত করে সমস্যাকে লাভ জনক আর্থিক সম্ভাবনায় অথবা বর্তমান সমাধানকে সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে আরও সহজ বা উপকারী সমাধানে রূপান্তর করে অথবা প্রথাগত কোন কাজকেই স্বাধীন ভাবে জীবন ধারণের মাধ্যমে পরিণত করে। সাম্প্রতিক দশক গুলোতে এই এন্টারপ্রেনরদের ভূমিকা ও সাফল্য এতটাই জোরালো যে অনেকেই বলে থাকেন বর্তমান অর্থনীতির চালক ও নিয়ন্ত্রক এই এন্টারপ্রেনরগন। এই বোধোদয় থেকে বেশীর ভাগ দেশই তাদের আর্থিক ও অর্থনৈতিক নীতি কাঠামোসহ উন্নয়ন অবকাঠামো এন্টারপ্রেনর বান্ধব হিসেবে ঢেলে সাজাচ্ছে, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বিকাশমান 'মিডল ক্লাস' এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নে এন্টারপ্রেনর উন্নয়ন এখন বহুল পরীক্ষিত ও সফল নীতি হলেও অজ্ঞাত জাদুর ঘোরে আমরা এখনও উল্টো পথে হাঁটছি। যদিও অর্থ গত ভাবে এসএমই ও এন্টারপ্রেনর শব্দ দুটির ভিন্ন অর্থ এবং ভিন্ন বিষয়ে ব্যবহৃত হলেও অজ্ঞাত কারণে বাংলাদেশে শব্দ দুটি প্রায় ক্ষেত্রেই পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে দু:খজনক বিষয় আমাদের নীতি কাঠামোতে এই শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয় অর্থহীন ভাবে অথবা কুমতলবে। প্রায়ই এন্টারপ্রেনর উন্নয়নের নামে মাঝে মাঝে এসএমই খাত এর নানা তথ্য উপাত্তের খিচুড়ি বিলানো হয় যার সাথে এন্টারপ্রেনরদের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলা সত্যি হল বাংলাদেশে এন্টারপ্রেনরদের জন্য এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ব্যাংকিং বা আর্থিকসহ কোন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক সেবার কোনই সুযোগ নেই।
আমাদের নীতি অবকাঠামোতে এন্টারপ্রেনর উন্নয়ন আর এসএমই উন্নয়ন একই অর্থে ব্যবহৃত হয়! বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই নীতিমালা অনুযায়ী এই খাতে ঋণ প্রাপ্তির যোগ্য, "Real entrepreneurs who are directly involved in SME sector". আর যে সমস্ত ব্যাংক এসএমই খাতে ঋণ দেয় তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এই খাতে ঋণ প্রাপ্তির নূ্যনতম যোগ্যতা হল কম পক্ষে ১/২ বছর লাভ জনক ভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা! এই নিয়মে আর যাই হোক কোন এন্টারপ্রেনর ঋণ পাওয়ার কথা নয় বাস্তবে কেউ পায়ও না। তত্ত্ব অনুযায়ী ৮০% এর বেশী এন্টারপ্রেনর প্রথম বছর পার করতে পারে না, খুব অল্পই দ্বিতীয় বছর পার করে, আর ক্ষুদ্র অংশই লাভ জনক অবস্থায় পৌছায়। নানা বন্ধুর পথ পারি দিয়ে অসীম সাহসী ও সৌভাগ্যবান এন্টারপ্রেনর যখন লাভের মুখ দেখে তখনই এই লাভে ভাগ বসাতে টিয়া হিসেবে ব্যাংক মহাজন হাজির হয় এসএমই উন্নয়নের নামে। প্রকৃত পক্ষে এসএমই খাতে ব্যাংক গুলির ঋণ দেবার কারণ কম ঝুঁকিতে উচ্চ সূদ আয়ের লোভ, এখানে নীতি বা মূল্যবোধের বালাই নাই। 
দাতাগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, মহাজন ব্যাংক, নানা নামের নানা ঢং এর আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সবারই নজর এখন এসএমই এর দিকে। কিন্তু সব এসএমই এর দিকে নয়, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠিত ও লাভজনকভাবে পরিচালিত এসএমই এর দিকে। যারা অনেক বন্ধুর পথ পারি দিয়ে এখন একটা সুবিধাজনক অবস্থায় এসেছে তাদের লাভে ভাগ বসানোর জন্যই এতো আয়োজন। বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য দাতা ও বন্ধুরা মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেমন, এডিবি ১২৬.৬৭ মিলিয়ন ডলার, প্রকল্প নং-৩৬২০০, আগস্ট ২০০৯। প্রকল্পের মেয়াদ অক্টোবর ২০০৯ হতে সেপ্টেম্বর ২০১২ । এই প্রকল্পে এডিবি ৭৬ মিলিয়ন ডলার দেবে ৮ বছরের গ্রেস পিরিয়ড সহ ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য ঋণ হিসাবে। যার সূদের হার গ্রেস পিরিয়ডে ১% এবং অবশিষ্ট সময়ের জন্য ১.৫% । স্বল্প সুদের কারণে দৃশ্যত এটি একটি মহৎ উদ্যোগ মনে হলেও এর আসল মোজেজা অন্য জায়গায়। কারণ এই ঋণ ডলারে পরিশোধ করতে হবে। আর অতীত অভীজ্ঞতানুযায়ী টাকার অবমূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় আগামী ৪০ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বর্তমানের অর্ধেকেরও নীচে নেমে আসবে। বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কারণেই তা অনিবার্য। ফলে গৃহীত অর্থের বহুগুণ বেশী পরিশোধ করতে হবে ভবিষ্যতে। শুধু কি তাই! এই ঋণের সাথে বিনামূল্যে আরও আছে হাজারো শর্তের বেড়াজাল। এই ঋণ বা বিনিয়োগের আসল লক্ষ্য মুনাফা কামানো নয়, শর্ত দেবার ক্ষমতা অর্জন। পুঁজি’র সুবিধা মত সবকিছু সংস্কার, বদল করার শর্ত। সবধরনের পুঁজি যাতে নির্বিঘ্নে কারবার করতে পারে তার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা অর্জন। বিশ্বব্যাংকের সূত্রে এডিবি’র হিসাব মতে ২০০৬ সালে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারী এন্টার প্রাইজ এর সংখ্যা ছিল মোট ৬.৮ মিলিয়ন (সে হিসাবে ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০মিলিয়নের উপরে এবং লাভজনক ও নিশ্চিত বিনিয়োগের সুযোগও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে), তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১ মিলিয়ন সফল উদ্যোক্তা আছে যাদের কাছে নিশ্চিন্তে ৩৯৫.৯৭ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করা যায়! নতুন এসএমই প্রতিষ্ঠা বা কোন রকমে টিকে থাকাদের উন্নয়নের কোন ব্যবস্থা এই প্রকল্পে নেই। কারণ প্রকল্পটির উদ্দেশ্যই ঋণের এই বিস্তৃত নতুন বাজারে পুঁজি’র মুনাফা নিশ্চিত করা, এসএমই খাতের উন্নয়ন নয়। সব ধরণের পুঁজি যাতে নিরাপদে স্ব স্ব কারবার করতে পারে তার পরিবেশ তৈরি করাই দাতাগোষ্ঠীর কাজ। সেই পুঁজির বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার প্রচ্ছন্নভাবে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী যেসব উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও সামর্থ্য আছে কেবল তারাই এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। তেলীর মাথায় তেল নয়, এ যেন পুঁটিমাছ দিয়ে বোয়াল ধরা আর কি! 
যে ঋণের ঝুঁকি যত বেশী সে ঋণের সূদ তত বেশী আর সহায়ক জামানত বিহীন ঋণের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সম্পূর্ন ব্যক্তি কেন্দ্রিক। প্রথা ও তত্ত্ব গত ভাবে এসএমই ঋণ জামানত বিহীন তাই এর উচ্চ ঝুঁকির কারণে সূদের হার উচ্চ হবে কিন্তু ঝুঁকির মাত্রার ভিন্নতা অনুযায়ী প্রত্যেক ঋণের সূদের হারেও ভিন্নতা থাকার কথা। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে তত্ত্ব অকার্যকর। বাস্তবে এখানে তথাকথিত সহায়ক জামানত যুক্ত কর্পোরেট ঋণের ঝুঁকির চেয়ে এসএমই ঋণের ঝুঁকি অনেক কম হলেও নানা তত্ত্বের গোলক ধাঁধায় এসএমই ঋণের সূদ আয় বৃহৎ ঋণের দ্বিগুনেরও বেশী, আরও অদ্ভূত ভাবে একই খাতের সকল ঋণের সূদের হার ব্যক্তি নির্বিশেষে একই যা ঋণের ঝুঁকি তত্ত্বের মৌলিক পরিপন্থী। অর্থ লগ্নী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই খাত এখন সবচেয়ে লাভ জনক ও সম্ভাবনাময় হওয়ায় সবাই নানা বাহারী নামে ঝাঁপিয়ে পরেছে এসএমই খাতের ত্রাতা হিসাবে, আসলে ধান্দা সবার নিজের নিজের আর তার প্রমান ব্যাংক গুলির স্থিতি পত্রেই আছে।